মা আসছেন | মহালয়া মায়ের আগমনী বার্তা | শত্রু জয়ের আশ্বাস | বিজয়ীর বিশ্বাস |

Standard

মা আসছেন….

~উপানন্দ ব্রহ্মচারী 
রাত পেরোলেই মহালয়া | মায়ের আগমনী বার্তা অধিকার করে আকাশ বাতাস হৃদয়-মন | মহালয়া মহামায়ার আগমনের চূড়ান্ত নির্ঘোষ |
………..
মা আসছেন | বছর ঘুরে আনন্দময়ীর এই  আগমন  সান্নিধ্যে বাঙালি তার দু:খ – যন্ত্রনা ভুলে আনন্দ পেতে চায় | অভাব-যন্ত্রনা ক্লিষ্ট, অগ্নিমূল্য বাজার – রাজনৈতিক অস্থিরতা পীড়িত এই জাতির এরূপ চাহিদাতে নুন্যতা নেই | কিন্তু স্বভাব দোষে এই আনন্দ তার পবিত্রতা হারিয়েছে অনেকাংশে | বৈভব-অহংকার, প্রতিযোগিতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, নেশাগ্রস্ততা, অবৈধ কার্যকলাপ, হুজুগপ্রিয়তা আর উদ্দেশ্যহীনতা এই আনন্দের আবর্তকে করে তোলে পঙ্কিল |
……………
শক্তিময়ীর কাছে শক্তি প্রার্থনা এই অবকাশে অদৃশ্য | শক্তিরূপেন সংস্থিতার কাছ থেকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের সময় যে রূপং দেহি, জয়ং দেহি, যশো দেহি স্তব তা নেহাত ব্যক্তিগত স্তরে আবদ্ধ থাকে | আজকালকার বাঙালি হিন্দু  এত  বোকা নাকি যে সে সামজিক রূপ বিকাশের জন্য প্রার্থনা করবে ? এই বাঙালি সমাজের জয়, প্রতিবেশীর যশ নিয়ে কেউ মাথা ঘামালে সে পাগল বা ধান্দাবাজ আখ্যায় ভূষিত হয়; আর যে বা যারা এ সব আলোচনা করে তাদেরকে গড় বাঙালি হিন্দু সমাজ সাংঘাতিক ভাবে এড়িয়ে চলে.|  নচেত এই জাতির এই হাল হয় ?

আজ বাঙালি হিন্দু তার হিন্দুত্বকে ঝেড়ে ফেলে বাঁচতে গিয়ে, বাঙালির শক্তিসাধনার মহাপর্ব কে সামাজিক হুল্লোড়ে পরিবর্তিত করে দাসানুদাস হয়ে বেঁচে আছে | রাজনীতি তাকে নিয়ন্ত্রিত করতে চায়, ৩০ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠী তাকে অত্যাচারিত করতে চায়, পরিবেশ -পরিস্থিতি – অনৈক্য – আত্মগৌরব হীনতা – পরানুকরণ সবই বাঙালি হিন্দু জাতিকে মরনাপন্ন করে তুলেছে |

তাইতো মা এসেছেন মৃত্যুপথগামী সন্তানদের বাঁচাতে | শক্তি, বুদ্ধি , প্রেম, ভক্তি, সেবা, সাহস যুগিয়ে আমাদের বাঁচাতে | যেথা চৈতন্য, শ্রীজ্ঞান, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, অরবিন্দ, প্রণবানন্দ; যেথায় জয়মল্ল, প্রতাপাদিত্য, রাজসিংহ, দুর্গাবতী, ভবশঙ্করী, রামমোহন, বিদ্যাসাগর,রবীন্দ্র, নজরুল, বিপিন, রাসবিহারী, সুভাষ, ক্ষুদিরাম, বিনয়-বাদল-দিনেশ, কানাইলাল, প্রফুল্ল, যতীন দাস, বাঘা যতীন, সূর্য সেন, প্রীতিলতা আর হাজারো সন্তানেরা এই মাতৃভূমিকে দেবভূমি, পুন্যভূমি, ধর্মভূমি, কর্ম ভূমিতে রুপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন, মা কখনই চান না এই পবিত্র ভূমি – ধর্মহীন রাজনীতি, সীমাহীন ভোগবাদ,  বৈদেশিক অনুকরণ, ইসলাম বা খ্রিস্টীয় মতবাদ আর স্বেছাচারের লীলাভূমি হয়ে উঠুক |

বাঙালি যদি একবার তার ক্ষুদ্র আনন্দ উদযাপনের মোহ ভেদ করে শ্রী শ্রী চন্ডীর শক্তিকে আপনার করে নিতে পারে, দেবী বোধনের চালচিত্রে সামাজকে একত্রিত করে,তাঁর হাতের দশ অস্ত্র সহায়ে মানবতা, আধ্যাত্মিকতা ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে আবার ধর্মযুদ্ধে অবতীর্ন হয়, তবেই বাঙালি হিন্দু ধী, ঐশ্বর্য্য, ঐক্য ও পৌরুষ সহকারে দশ দিশায় এক সত্যম শিবম সুন্দরম এর ধর্ম সাম্রাজ্য স্থাপন করতে পারবে |  বৈদেশিক অধর্ম, রাজনীতি, মাতৃভূমির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আর ভোগ বিলাসের মহিষাসুররা ত্যাগ – তিতিক্ষা – সেবা – সাধনার অস্ত্রাঘাতে নিপাতিত  হবে |
…………………..
বাঙালি আজ রাজনীতিতে অধিক সমর্পিত | তাই উত্সবের অঙ্গনেও রাজনীতি তার আবিলতায় ধর্মের পবিত্রতা হরনে উদগ্রীব | ৩৪ বছর ধরে যারা ধর্মের ছোয়া এড়িয়ে ইসলামী দানবের শক্তি বাড়িয়েছে আর আজ যারা পরিবর্তনের পর সেই  দানবকে ইফতার, ঈদ, সংরক্ষণ আর স্বাধীনতার উদযাপনে বড় বেশি তোল্লা দিয়ে হিন্দু বিরোধী আসুরিক কর্মকান্ডে উত্সাহিত করছে,  আমরা অধীর আগ্রহে দেখব একপক্ষ শাসন ক্ষমতা হারিয়ে আর অন্যপক্ষ শাসন ক্ষমতা অর্জন করে প্রথমবার জগত শাসনকত্রী মহামায়াকে কেমন ভাবে বরণ করে |
…………………
এইবার ঈদ আর ইফতার রাজনৈতিক ইতরতায় তার সর্বকালীন রেকর্ড ম্লান করেছে | সরকারি আয়োজনে, মোচ্ছবে, মুসলিম সমাজের জন্য সুযোগ সুবিধার অঙ্গীকারে, মুসলিম কয়েদী থেকে নাগরিক জনে জনে শুভেচ্ছা আর উপহার বিতরণে, আতর গুলাল এর উগ্র গন্ধে সনাতন ধর্ম বিরোধীদের তুষ্ট রাখতে কোনো কার্পন্য হয়নি | এখন এটাই দেখার বাঙালি হিন্দুর এই সর্ববৃহত এই উত্সবে যে কুলাঙ্গার হিন্দুগুলো মাথায় টুপি দিয়ে মোল্লা সেজে নামাজের ভান করছিল আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রাজকন্যে আর রাজপুত্তুর সাজতে চাইছিল, তারা এই দুর্গাপূজায় কি করে ?  দারিদ্র লাঞ্ছিত, ইসলামী-খ্রিষ্টীয়-রাজনৈতিক আক্রমনে পর্যুদস্ত প্রান্তিঁক হিন্দু জনগনের জন্য এবারের পুজোতে এই বেজন্মা রাজনৈতিক প্রানীদের বার্তা কি ?

খারাপ খবরই আসবে | অন্যান্য বারের মতো বাঙালী হিন্দু তার ইপ্সিত ফললাভে বঞ্চিত হবে | সুসজ্জিত বেশভূষায় প্রলুব্ধ মোল্লা ছেলেদের খপ্পরে পড়বে অনেক হিন্দু মা-বোন | দু পাড়ার বা ক্লাবের রেষারেষিতে বিলুপ্ত প্রায় হিন্দু ঐক্য আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে | টাকার শ্রাদ্ধ হবে, সেবা কাজের নামে আখের গোছানো হবে অনেক জায়গায়, ওই টাকার এক শতাংশ দিয়েও  মায়ের টিনের অস্ত্র গুলোকে আসল অস্ত্রে বদলিয়ে হিন্দু সুরক্ষার কথা ভাববে না কেউ | দশমীর দিনে নেশা করে এমন নাচতে হবে, যেন ঘুম না ভাঙ্গে তিন চার দিন | বাকিরা ভ্রমনে গিয়ে খেয়ে-মেখে-নেয়ে একাকার | এর ব্যতিক্রম কতটুকু ? এই কি মায়ের পুজো ?

বাঙালী হিন্দু একবার অতীত গৌরব স্মরণ করুন | স্বাধীনতার ক্রান্তি কালে শক্তি সাধনার ধারাকে পাথেয় করুন | আনন্দমঠের যে শিক্ষায় মহেন্দ্র  তার নিস্পৃহতা আর নিবীর্জ্যতাকে পরিহার করে  জীবন সমরে প্রবৃত্ত হয়েছিল, আসুন সেই শিক্ষাই গ্রহন করি | ভাবুন এই মাটি আমার মা, এই জাতি আমার মা, আসুন মাতৃসাধনার  সাধনসমরে প্রবৃত্ত হই |
……………
ষড় রিপু জয়ে  আত্মবোধনের মধ্য দিয়ে আসুন সপ্তগ্রামে দেবী মাহাত্ম প্রচার করি | কঠোর অষ্ট ব্রত পালনে নব যুগের সন্ধিক্ষনে পৌঁছে দশদিক আমোদিত করে বলি বন্দে মাতরম | কায়মনোবাক্যে মায়ের কাছে প্রার্থনা করি মা বিজয়ী কর, শত্রু নাশ করো | জয় মা | ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতু: |   তুমিই প্রসন্না হয়ে সংসারে মুক্তির কারণ হও | আবার বলি জয় মা |  বন্দে মাতরম |
……………………………………
মা আসছেন | মহালয়া মায়ের আগমনী বার্তা | শত্রু জয়ের আশ্বাস |  বিজয়ীর বিশ্বাস |
About these ads

About bangalihindurjanya

পশ্চিমবঙ্গ বাঙালি হিন্দুর প্রথম সুরক্ষাভূমি শ্যামাপ্রসাদের সৃষ্টি এই পশ্চিমবঙ্গের নাম যে পাল্টে ভয়ংকর কিছু হলো না, তার জন্য ইশ্বরকে ধন্যবাদ | চক্রান্ত চলছে এই বাংলাকে বাংলাদেশের কুক্ষিগত করে বাঙালি হিন্দুর সর্বস্ব হরণ করার | দেশ ভাগের বলি হিসাবে বাঙালি হিন্দুর রক্ত ঝরেছে, ভিটে মাটি গিয়েছে, ইজ্জত হারিয়েছে অগনিত মা-বোন..... নিজ ভূমে পরবাসী হবার লাঞ্চনা সইতে সইতে, ভুলতে চায়েছি সব কিছু | বাঙালি বলে বাঙালি হিন্দুর উপর বাঙালি মুসলমানরা তাদের উর্দুভাষী জাত ভাইদের সাথে হাত মিলিয়ে অত্যাচার, ধর্ষণ, খুন কিছু কম করেনি | সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে | শুধু বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দুর উপর বি এন পি - জামাতের অত্যাচার নয়, সমানতালে সেথায় চলছে আওয়ামী - লীগের হিন্দু নিকেশ কর্ম যজ্ঞ | আর পশ্চিমবঙ্গে ? ঠিক একই ভাবে শোনা যাচ্ছে পাকিস্তানের পদধ্বনি | মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা ছেড়ে বাঙালি হিন্দু পালাচ্ছে | সীমাহীন অত্যাচারিত হচ্ছে | ৩৪ বছরের লালিত ইসলামী দানব আজ পরিবর্তনের আসুরিক শক্তি নিয়ে এক নিটোল ইসলামী বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর | সি পি এম - তৃনমূল কেউই বাঙালি হিন্দুকে বাঁচাতে আসবে না | আসছে না | তাহলে বাঙালি হিন্দু কি শেষ হয়ে যাবে ? আসুন পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দুর সুরক্ষাভূমি হিসাবে গড়ে তুলি | যার ভিত্তি হোক বাঙালি হিন্দু জাতীয়তাবাদ | দেশপ্রেম, ভারতপ্রেমের পরাকাষ্ঠা হয়ে, আসুন আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্ত ঋণ শোধ করি, এই বাংলাকে ভারতের হিন্দু নব জাগরণের পীঠস্থান রূপে গড়ে তুলি | বন্দে মাতরম | এই ব্লগের সঙ্গে থাকুন | হে নতুন যুগের যাত্রী আসুন সংগ্রামের ভূমিতে একসাথে এগোই |

5 responses »

  1. মা দূর্গার পূজোর সার্বজনীন রূপ দেখতে চাইলে বাংলাদেশে আসুন। আশা করি আপনার ভুল ভেঙ্গে যাবে। মুসলমানেরা হিন্দুদের প্রতি খুবই উদার। শারদীয় শুভেচ্ছা রইল।

    • ৭১ এর ২২ শতাংশ হিন্দুকে তো আনন্দের সঙ্গে ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন | আর কত প্রতারনা করবেন ? কোরানের নির্দেশিত পথে বাংলাদেশের হিন্দুদের তো জিম্মি করে রেখেছেন ভাই | আর কি চাই ?
      আমার ফেস বুকে আসা বিপুল মোহান্তর প্রতিবেদনটি পড়ে বরং নিজের জালিয়াতি টা আয়নাতে দেখুন :-
      অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পূজা প্রস্তুতি
      By Bipul Mohanto ·

      দেশে এইবার ১০০০ টি পূজামণ্ডপ বেশী হচ্ছে, খবরটা অনেক আগেই পড়েছিলাম; সকলেই এই খবরে উচ্ছ্বাসিত, আনন্দিত। শুধু আনন্দ হচ্ছিলনা আমার, আমি নরাধম দাস । প্রতিবারের মতো এইবারও পূজার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে, প্রতিমার গায়ে শেষ বারের মতো তুলি দেবার সময় এসেছে,সকল প্রতিমা তা পাবে কিনা আমার জানা নেই,তবে মাটির প্রতিমা যে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে তা আমি হলফ করে বলতে পারি । শেষ সময়ে প্রতিমা ভাঙচুর,মন্দিরে আগুন দেয়া,মন্দিরের সেবাইত-পুরহিতদের মারধর, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আর কি !

      দেশের কোন প্রান্ত থেকে প্রতিমা ভাঙ্গার গল্প শুরু করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা, আচ্ছা উত্তর প্রান্ত থেকেই যাত্রা শুরু করিঃ দিনাজপুর, নীলফামারী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরিশাল, সিলেট, এমন কি দুর্গম পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলিকদম সেখানেও বাদ যায়নাই। মনে করেছিলাম মাত্র কয়েকটা মণ্ডপ আর প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে, এখন দেখছি সমগ্র বাংলাদেশ, কোথায় বাদ আছে ? দেশে ১০০০ টি বেশী মণ্ডপ, আর ১০০০ মণ্ডপ ভাঙচুর, হিসাব তো বরাবর হতে হবে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বলে কথা, অসাম্প্রদায়িক হিন্দু সমাজ বলে কথা ।

      এই ঘটনা আজ আমাদের গা সওয়া হয়ে পরেছে, এখন আর প্রতিমা ভাঙ্গা, মণ্ডপ পোড়ান আমাদের মনে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, চোখের জল তো একদিন শুকিয়ে যায়……কতই আর জল ধরে এই ছোট্ট দুইটা চোখে, কতই বা জোর আছে এই তৃণভোজীর দুই দুর্বল বাহুতে, এর চাইতে ঢের ভালো মাটির প্রতিমা, এসো…… ভাঙ্গ, আগুন লাগাও মণ্ডপে, যা ইচ্ছা কর……

      প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন, ভাগ্য খুব বেশী প্রসন্ন হলে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে (বড়জোর ৭ দিন তাদের হাজতে রাখা হবে), এলাকাবাসী মানব বন্ধন করছে, রাজনৈতিক নেতারা নিন্দা জ্ঞাপন করছেন, বুদ্ধিজীবীরা দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রসার ঘটছে বলে বড়বড় কথা বলছেন। Really I am sick for all this nonsense. কুকুরেরও নাকি লজ্জা থাকে, কিন্তু আমাদের সেটুকুও নাই, আমরা এতেই সন্তুষ্ট। শিব একটা বেলপাতাতে সন্তুষ্ট হয়, আর আমাদের সেই বেলপাতাটুকুও চাই না।

      কোথাও কেউ কি শুনেছেন, ঈদের আগে কোন হিন্দু ঈদগাহ ভাঙছে ? মসজিদের দেয়ালে পানের পিক ফেলছে? আগুন দেয়া বা ভাঙচুর করা তো দুরের কথা, আমাদের মনে মসজিদের দেয়ালে পানের পিকটুকুও ফেলার ইচ্ছা কখনো করে না; আর বিনিময়ে আমাদের জন্য এই উপহার! সত্যি অনেক বড় এই উপহার ! অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। অনেক মানুষের নাকি অন্যদের আনন্দে হিংসা হয়, আমরা তাদের হিংসুক বলে থাকি, এখন আপনারাই ভেবে দেখুন কে এই হিংসুক, কে এই মহান মানব সম্প্রদায় ? শান্তির ধর্ম বললেই তো আর সব কিছু শান্তির হয় না। বাংলাদেশে সকল সম্প্রদায় নিজ নিজ ধর্ম নাকি সঠিক ভাবে পালন করছে, কোন অসাম্প্রদায়িকতা নেই এইখানে, তার নমুমা হচ্ছে এই, প্রতিবার পূজার আগে পূজা প্রস্তুতি।

      এখন আমি নরাধম দাস যা বলি, কক্সবাজারের হিন্দুরা নাকি এইবারে দুর্গাপূজা পালন করবেনা, কেন? আপনি কি অনুভব করতে পারেন কতটা কষ্টে, কতটা নির্যাতনের ফলে বাঙালি হিন্দু সমাজ এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে, কেন তারা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালনকে না করতে পারে ? একজন হিন্দু হিসাবে আপনার কি উচিত নয় এদের পাশে দাঁড়ানো ? আসুন আমরা সবাই এক হয়ে এই ধরণের ঘটনা গুলোকে প্রতিহত করি। কেন এই প্রতিমা ভাঙচুর, কেন এই মণ্ডপে আগুন দেয়া, কেন নিরীহ সেবাইত-পুরহিত নির্যাতন ? এর জন্য দরকার হলে আসুন আমরা সবাই মিলে পূজাকেও বর্জন করি,কক্সবাজারের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় দায়িত্ব, তারা পূজা করবেনা, আর আপনি কি করে আনন্দ-উৎসব পালন করবেন? মায়ের পূজা আমরা সেদিনই করবো যেদিন মা আমাদের দেশে সম্পূর্ণ নিরাপদ হবেন……

      আসুন, মানব বন্ধন নয়, এই ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি,সোচ্চার আন্দোলন; যেন এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে, আগামী বছর মা যেন নিরাপদে ধরাধামে আসতে পারেন আমাদের মাঝে।

      হরে কৃষ্ণ
      বিপুল মোহন্ত
      [ http://www.facebook.com/groups/bjhm.ctg/doc/202698056464530/ ]

      পারলে বাংলাদেশে এখন কি করছেন আপনারা একটু ভালো করে দেখুন বুঝুন |
      [The ensuing Durga Puja in Bangladesh may grossly be violated by the Islamists.
      http://hinduexistence.wordpress.com/2011/09/27/the-ensuing-durga-puja-in-bangladesh-may-be-plundered-by-the-islamists/#comment-3504%5D

      অন্যের ভুল ভাঙ্গানোর আগে আপনাদের (বাংলাদেশী ভদ্রবেশী চালাক তালিবান) নিজেদের ভুল ভাঙান | আপনাকেও শারদীয়া দুর্গোত্সবের শুভেচ্ছা |

      রমা রায় , কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ |

      • পোস্টটা পড়ে যতটা না সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল, প্রকাশিত মন্তব্য প্রবাহে আমার সেই সন্দেহটাও দূর করে দিলেন। চাইলেও আমাদের (মুসলমান বাঙ্গালীদের) সাম্প্রদায়িকতা আপনারা ভাঙ্গতে পারবেননা । এটা সাম্প্রদায়িকতা নয় | আমাদের ইমান ও ধার্মিক দ্বায়িত্ব | বাংলাদেশে যদি মুসলমানদের রাজ হয় তাতে হিন্দুদের কি ?

      • নয়িম ভাই ঠিক কয়েছেন | পাক্কা মোমিনের মতো | আমরা বাংলাদেশে মালাউনের বাচ্চা বটে |

        বাংলাদেশী মুসলিমরা হিন্দুদের উপর নির্যাতন করছে এটা স্বীকার করতে চায় না। তারা বলে বাংলাদেশ নাকি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। সত্য কথা হচ্ছে বাংলাদেশ কোন কালেই অসাম্প্রদায়িক ছিল না। খিলজি থেকে শাহ জালাল সব দাড়িওয়ালাই হিন্দুদের গলা কেটেছে ।

        এই বছর সরস্বতী পুজার দিন ৩০ তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষা ছিল।

        এবার শারদীয় দুর্গা পূজার ভিতর ৩১ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা।
        ২ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর দিন আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি;
        ৩ অক্টোবর মহা সপ্তমির দিন গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা;
        ৪ অক্টোবর মহা অষ্টমীর দিন বাংলা প্রথমপত্র;
        ৫ অক্টোবর মহা নবমীর দিন বাংলা দ্বিতীয়পত্র

        হিন্দু ছাত্রদের কি হবে? তারা কি পুজা করবে না? তাদের তো বসে বসে পড়তে হবে।

        পিএসসি কি পারবে ঈদের দিন পরীক্ষা দিতে?

        পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু গুলো আদৌ জানেনা কিভাবে বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু গুলোকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে | তারপর তাদের পালা |

        প্রভাস দাস |
        খুলনা, বাংলাদেশ |

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s